বিশ্বস্ত ভিসা ও ইমিগ্রেশন গাইডলাইন
Pick Your VISA
ছাত্র ভিসাওয়ার্ক পারমিটট্যুরিস্ট ভিসাইমিগ্রেশনবিজনেস ভিসাঅন্যান্য ভিসা ও আপডেট
বিজ্ঞাপনAd
work8 মিনিট পড়া

বাংলাদেশীদের জন্য পর্তুগাল জব সিকার ভিসা আবেদন গাইড ২০২৬: খরচ, কাগজপত্র ও নিয়মাবলী

💡 গুরুত্বপূর্ণ সারসংক্ষেপ (Key Overview)

বাংলাদেশীদের জন্য পর্তুগাল জব সিকার ভিসা আবেদন গাইড ২০২৬: ২০২৬ সালের আপডেটেড ভিসা প্রসেসিং নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, খরচ ও সম্পূর্ণ আবেদন নির্দেশিকা জেনে নিন।

MdMHasan
Portugal Job Seeker Visa Application Guide from Bangladesh
SHARE:
আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ বার্তা (২০২৬ আপডেট): PickYourVisa-র অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের দ্বারা সত্যতা যাচাইকৃত এই গাইডটি বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল জব সিকার ভিসায় আবেদনের প্রতিটি ধাপ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে। পর্তুগাল ইমিগ্রেশন (AIMA) ও IEFP-র সাম্প্রতিক নিয়ম মেনে তথ্যগুলো তৈরি করা হয়েছে।

পর্তুগাল জব সিকার ভিসা (Portugal Job Seeker Visa) কী?

পর্তুগাল সরকার বিদেশী দক্ষ কর্মীদের সে দেশে এসে চাকরি খোঁজার সুযোগ দিতে 'জব সিকার ভিসা' চালু করেছে। এই ভিসার অধীনে একজন আবেদনকারী ১২০ দিনের (৪ মাস) জন্য পর্তুগালে প্রবেশের অনুমতি পান, যা প্রয়োজনে আরও ৬০ দিন বাড়ানো যায়। এই সময়ের মধ্যে পর্তুগালে চাকরি খুঁজে চুক্তি সম্পন্ন করতে পারলে আপনি সরাসরি রেসিডেন্স পারমিটের (AIMA) জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজের তালিকা (Document Checklist)

বাংলাদেশ থেকে সফলভাবে আবেদন করার জন্য আপনার নিচের কাগজপত্রগুলো সঠিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে:

  • পাসপোর্ট: অন্তত আগামী ৬ মাস মেয়াদী বৈধ পাসপোর্ট এবং পূর্বের পাসপোর্টের ফটোকপি।
  • আইইএফপি (IEFP) রেজিস্ট্রেশন: পর্তুগালের Institute for Employment and Vocational Training (IEFP)-এ অনলাইনে চাকরির সন্ধানের ডিক্লেয়ারেশন আবেদন জমা দিয়ে প্রাপ্ত সনদ।
  • আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ (Bank Solvency): পর্তুগালের ন্যূনতম ৩ মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ (বর্তমানে প্রায় ২,৪৬০ ইউরো বা প্রায় ৩,৫০,০০০+ বাংলাদেশী টাকা) নিজ ব্যাংকে দেখাতে হবে।
  • থাকার ব্যবস্থা (Proof of Accommodation): পর্তুগালে ১২০ দিন থাকার এয়ারবিএনবি বা হোটেল বুকিং অথবা স্থানীয় কোনো নাগরিকের স্পন্সরশিপ/আমন্ত্রণপত্র।
  • রিটার্ন এয়ার টিকিট বুকিং: পর্তুগাল থেকে ফিরে আসার বা ভ্রমণের ফ্লাইট আইটিনারি।
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট: বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MOFA) থেকে সত্যায়িত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ।
  • ভ্রমণ স্বাস্থ্য বীমা (Travel Health Insurance): অন্তত ৩০,০০০ ইউরো কভারেজযুক্ত আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স।
  • জীবনবৃত্তান্ত (CV) ও কাভার লেটার: ইউরোপাস (Europass) ফরম্যাটে প্রস্তুতকৃত আপডেট সিভি।

পর্তুগাল জব সিকার ভিসায় মোট সম্ভাব্য খরচ (Estimated Cost in BDT)

বাংলাদেশী টাকা (BDT)-তে আবেদন প্রক্রিয়ার আনুষঙ্গিক আনুমানিক খরচের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

খরচের বিবরণ (Item)আনুমানিক পরিমাণ (BDT)
ভিসা আবেদন ফি (Embassy Visa Fee - €90)১২,০০০ - ১৩,০০০ টাকা
ভিএফএস গ্লোবাল সার্ভিস চার্জ (VFS Charges)৪,০০০ - ৫,০০০ টাকা
ডকুমেন্ট সত্যায়ন (MOFA & Notary)৩,০০০ - ৫,০০০ টাকা
মেডিকেল ও ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স৮,০০০ - ১২,০০০ টাকা
ব্যাংক ব্যালেন্স প্রমাণ (ন্যূনতম ৩ মাসের মূলধন)৩,৫০,০০০ - ৩,৮০,০০০ টাকা
ফ্লাইট ও হোটেল বুকিং প্রসেসিং৫,০০০ - ১০,০০০ টাকা

ধাপভিত্তিক আবেদন পদ্ধতি (Step-by-Step Application Procedure)

  1. ধাপ ১ (IEFP Registration): প্রথমে IEFP-এর অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে জব সিকার হিসেবে নিবন্ধন করুন এবং আপনার শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা জমা দিয়ে ডিক্লেয়ারেশন ডাউনলোড করুন।
  2. ধাপ ২ (ডকুমেন্ট সত্যায়ন): পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও শিক্ষাগত সনদপত্র বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MOFA) থেকে সত্যায়িত করে নিন।
  3. ধাপ ৩ (ভিএফএস অ্যাপয়েন্টমেন্ট): নয়াদিল্লিতে অবস্থিত পর্তুগাল দূতাবাস বা ভিএফএস গ্লোবালের পোর্টালে ভিসার ক্যাটাগরি বেছে নিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউল বুক করুন।
  4. ধাপ ৪ (ইন্টারভিউ ও ডকুমেন্ট জমা): নির্ধারিত তারিখে দিল্লি ভিএফএস কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক প্রদান করুন এবং ফাইল জমা দিন।
  5. ধাপ ৫ (ভিসা লাভ ও পর্তুগাল ভ্রমণ): ভিসা অনুমোদন পেলে ১২০ দিনের মধ্যে পর্তুগালে পৌঁছে কাজ খোঁজা শুরু করুন এবং স্থায়ী কাজের চুক্তি সম্পন্ন হলে AIMA-তে রেসিডেন্সির আবেদন করুন।
বিশেষ টিপস ও সাধারণ ভুলসমূহ:
১. ফেক বা ভুয়া হোটেল বুকিং ও ফ্লাইট টিকিট জমা দেবেন না; এতে ভিসা তাৎক্ষণিক রিজেক্ট হতে পারে।
২. আপনার সিভি অবশ্যই পর্তুগিজ বা স্ট্যান্ডার্ড ইউরোপাস ফরম্যাটে রাখুন।
৩. ব্যাংক স্টেটমেন্টে হঠাৎ বড় অংকের টাকা জমা না দেখিয়ে অন্তত ৩-৬ মাসের স্বাভাবিক লেনদেন বজায় রাখুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)

১. বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পর্তুগাল জব সিকার ভিসার ইন্টারভিউ দেওয়া যায়?

বর্তমানে পর্তুগালের মূল কনসুলার কার্যক্রম নয়াদিল্লি থেকে পরিচালিত হয়, ফলে বাংলাদেশী আবেদনকারীদের দিল্লির ভিএফএস সেন্টার বা দূতাবাসে ফাইল জমা দিতে হতে পারে। তবে সর্বশেষ আপডেট জানতে স্থানীয় নোটিশ বোর্ডে নজর রাখুন।

বিজ্ঞাপনAd

২. পর্তুগালে গিয়ে চাকরি না পেলে কি হবে?

১২০ দিন (প্লাস বর্ধিত ৬০ দিন) পার হওয়ার পর যদি আপনি চাকরি না পান বা কাজের চুক্তি করতে ব্যর্থ হন, তবে আপনাকে পর্তুগাল ও শেঙ্গেন এলাকা ত্যাগ করতে হবে।

৩. পর্তুগাল জব সিকার ভিসায় কি স্পাউস বা পরিবার সাথে নেওয়া যায়?

প্রাথমিকভাবে জব সিকার ভিসায় পরিবার নেওয়ার সুযোগ নেই। পর্তুগালে চাকরি পেয়ে রেসিডেন্স পারমিট (TRC) পাওয়ার পর আপনি ফ্যামিলি রিইউনিফিকেশন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

Enjoyed this article? Share with friends:

SHARE:
বিজ্ঞাপনAd

ভিসা আবেদন ধাপ ও সময়সূচি (Application Procedure Timeline)

আবেদন ফরম জমা থেকে পাসপোর্ট ডেলিভারি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের বিবরণ

1

কাগজপত্র প্রস্তুত ও সত্যায়ন

১ - ৩ দিন

পাসপোর্ট, ব্যাংক বিবরণী, ছবি এবং স্পন্সরশিপ নথি সংগ্রহ করে সত্যায়িত ও অনুবাদ সম্পন্ন করুন।

2

অনলাইন ফরম পূরণ ও ভিএফএস অ্যাপয়েন্টমেন্ট

১ দিন

অফিসিয়াল এম্বাসি পোর্টালে নিখুঁতভাবে ফরম পূরণ করে নির্দিষ্ট তারিখে বায়োমেট্রিক সময় বুক করুন।

3

বায়োমেট্রিক ও ফাইল জমা (VFS Submission)

নির্ধারিত দিন

নির্ধারিত কেন্দ্র বা ভিএফএস সেন্টারে সরাসরি উপস্থিত হয়ে ফি প্রদান, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফাইল জমা দিন।

4

এম্বাসি প্রসেসিং ও সিদ্ধান্ত

১৫ - ২১ কার্যদিবস

কনস্যুলার টিম কর্তৃক ফাইল যাচাই-বাছাই ও পাসপোর্ট ডেলিভারি স্ট্যাটাস আপডেট দেওয়া হবে।

ভিসা যোগ্যতা যাচাই টুল (Eligibility Checker)

আপনার ফাইল সাবমিশন সফলতার সম্ভাব্যতা কয়েক ক্লিকে নিজেই পরীক্ষা করুন

1. আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ কতদিন আছে?

2. আপনার বা স্পন্সরের গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট কি সন্তোষজনক?

3. কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে NOC / ছুটির অনুমোদন রয়েছে?

4. আপনার পূর্বে কোনো দেশ ভ্রমণের রেকর্ড আছে?

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ডিজিটাল চেকক্লিপ (Document Checklist)

আপনার ফাইলের জন্য প্রস্তুতকৃত ডকুমেন্টস টিক দিয়ে সেভ বা প্রিন্ট করুন

মূল পাসপোর্ট (কমপক্ষে ৬ মাসের মেয়াদ থাকতে হবে)

ব্যক্তিগত নথি • বাধ্যতামূলক

রিসেন্ট ৩৫×৪৫ মিমি সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ল্যাব ছবি (২ কপি)

ব্যক্তিগত নথি • বাধ্যতামূলক

বিগত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট

আর্থিক নথি • বাধ্যতামূলক

ট্যাক্স রিটার্ন সার্টিফিকেট ও চালান কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

আর্থিক নথি

কর্মক্ষেত্রের NOC / ছুটির অনুমোদনপত্র (লেটারহেড প্যাডে)

পেশাগত নথি • বাধ্যতামূলক

ট্রেড লাইসেন্স ও ইংরেজি অনুবাদ সত্যায়িত (ব্যবসায়ীদের জন্য)

পেশাগত নথি

হোটেল বুকিং ও ফ্লাইট আইটিনারি কপি

ভ্রমণ নথি • বাধ্যতামূলক

ভ্রমণ স্বাস্থ্য বীমা (Travel Health Insurance)

ভ্রমণ নথি • বাধ্যতামূলক

ভিসা ফি ও সার্ভিস চার্জ ক্যালকুলেটর

আনুমানিক সরকারী ও অন্যান্য খরচের হিসাব ...

সর্বমোট আনুমানিক খরচ

...

এম্বাসি ফি: ...

অন্যান্য চার্জ: ...

সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (Frequently Asked Questions)

ভিসা প্রসেসিং ও প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

উদ্দেশ্য ও দেশের উপর ভিত্তি করে খরচের তারতম্য হয়। সাধারণত ইউরোপ বা সেনজেন দেশের জন্য পাসপোর্টপ্রতি ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা এবং স্টুডেন্ট ভিসার জন্য ১ বছরের টিউশন ফি সহ ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা দেখানো নিরাপদ।

WRITTEN BY

MdMHasan

Visa & Immigration Content Specialist at Pick Your VISA.

বিজ্ঞাপনAd

সম্পর্কিত অন্যান্য গাইডলাইন

বাংলাদেশের জন্য কোন কোন দেশের ভিসা খোলা আছে 2026ভিসা

বাংলাদেশের জন্য কোন কোন দেশের ভিসা খোলা আছে 2026

বাংলাদেশের জন্য কোন কোন দেশের ভিসা খোলা আছে 2026: ২০২৬ সালের আপডেটেড ভিসা প্রসেসিং নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, খরচ ও সম্পূর্ণ আবেদন নির্দেশিকা জেনে নিন।

৭/২/২০২৬
স্পেন ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ২০২৬: নতুন নিয়ম, খরচ ও পূর্ণাঙ্গ গাইডভিসা

স্পেন ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ২০২৬: নতুন নিয়ম, খরচ ও পূর্ণাঙ্গ গাইড

স্পেন ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ২০২৬: ২০২৬ সালের আপডেটেড ভিসা নিয়মাবলী, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস তালিকা, প্রসেসিং ফি ও ধাপে ধাপে সঠিক আবেদন নির্দেশিকা। বিস্তারিত জেনে

১/৮/২০২৫
বাংলাদেশীদের জন্য পর্তুগাল জব সিকার ভিসা আবেদন গাইড ২০২৬: